বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরই পদত্যাগের কথা ভাবছেন—এমনটাই দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথোপকথনের বরাতে।
রয়টার্সকে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নাকি স্পষ্ট করে বলেছেন,
“আমি যেতে প্রস্তুত। আমি সরে যেতে চাই।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি মনে করছেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সাত মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কোনও সাক্ষাৎ হয়নি এবং বিশ্বব্যাপী মিশনগুলো থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে—এসবই তার ক্ষোভের কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।
রাষ্ট্রপতির কথায়:
“আমার প্রতিকৃতি বিনা নোটিশে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যায় যে আমাকে হয়তো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি গভীরভাবে অপমানিত হয়েছি।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্তির পর—রাষ্ট্রপতিই ছিলেন একমাত্র সক্রিয় সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। সাধারণত আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও সেই সময় তার অবস্থান অস্বাভাবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে পাঁচ বছরের মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে তার দল আওয়ামী লীগ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ।
রয়টার্সকে তিনি আরও বলেন:
“নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি সাংবিধানিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করব।”
এটি তার দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর রয়টার্সের মন্তব্য অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com