
ফর্মুলা ওয়ানের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রিতে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন মার্সিডিজের ড্রাইভার জর্জ রাসেল। তার সতীর্থ কিমি আন্তোনেলি দ্বিতীয় হয়ে দলকে একটি দুর্দান্ত ১–২ ফিনিশ এনে দেন।
ভার্চুয়াল সেফটি কারের সময় কৌশলগতভাবে নেওয়া দ্রুত পিটস্টপ মার্সিডিজকে বড় সুবিধা এনে দেয় এবং সেটিই শেষ পর্যন্ত রেসের ফল নির্ধারণ করে।
রেসের শুরুটা কিন্তু মার্সিডিজের জন্য সহজ ছিল না। পোল পজিশনে থাকা রাসেলের স্টার্ট কিছুটা ধীরগতির ছিল এবং আন্তোনেলিও শুরুতে সপ্তম স্থানে নেমে যান।
এই সুযোগে ফেরারির চার্লস লেক্লার্ক দ্রুতগতির স্টার্ট নিয়ে প্রথম কর্নারে এগিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ রেসের শীর্ষস্থান ধরে রাখেন। লেক্লার্ক ও রাসেলের মধ্যে কয়েক ল্যাপ ধরে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই চলে।
রেসের ১২তম ল্যাপে রেড বুলের ড্রাইভার আইজ্যাক হাজারের গাড়ি থেমে যাওয়ার কারণে ভার্চুয়াল সেফটি কার চালু করা হয়।
এই মুহূর্তে মার্সিডিজ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই গাড়িকেই পিটস্টপে ডাকে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন ধীর গতিতে ট্র্যাকে চলছিল, তখন এই কৌশল মার্সিডিজকে বড় সুবিধা দেয় এবং রাসেল কার্যত রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।
রাসেল বলেন,
“আমরা জানতাম রেসটা কঠিন হবে। শুরুটা ভালো হয়নি, কিন্তু দলের কৌশল অসাধারণ ছিল। অনেকদিন পর এমন প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি পেয়ে সত্যিই দারুণ লাগছে।”
রেস শেষে তৃতীয় স্থানে থেকে পডিয়াম নিশ্চিত করেন চার্লস লেক্লার্ক। তবে ভার্চুয়াল সেফটি কারের সময় দ্রুত পিটস্টপের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ফেরারি কিছুটা হতাশ।
লেক্লার্ক বলেন,
“সম্ভবত আজ মার্সিডিজের গতি আমাদের চেয়ে একটু বেশি ছিল। হয়তো জয় পাওয়া কঠিনই ছিল।”
লেক্লার্কের সতীর্থ লুইস হ্যামিল্টন চতুর্থ স্থানে ফিনিশ করেন, মাত্র ০.৬ সেকেন্ড ব্যবধানে।
সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হ্যামিল্টন রেস চলাকালীন রেডিও বার্তায় ফেরারির কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“আমাদের অন্তত একজনের পিটস্টপে আসা উচিত ছিল।”
মৌসুমের প্রথম রেসেই কৌশলগত দক্ষতা দেখিয়ে মার্সিডিজ শক্তিশালী বার্তা দিল। জর্জ রাসেলের জয় ও আন্তোনেলির দ্বিতীয় স্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ২০২৬ মৌসুমে ফর্মুলা ওয়ানে মার্সিডিজ আবার শিরোপা লড়াইয়ে ফিরতে পারে।