
মানামা, বাহরাইন — মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (GCC) বুধবার বাহরাইনে এমন এক শীর্ষ বৈঠকে বসছে, যেটিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন “পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ।” দীর্ঘদিনের সংকট-নির্ভর নীতি সরিয়ে এবার উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন ভারসাম্য নির্মাণে মনোযোগ দিতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা, সিরিয়া, রেড সি থেকে সুদান পর্যন্ত চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক ঝুঁকি ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষা ধারণাকে অকার্যকর করে তুলেছে। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং সেপ্টেম্বরে কাতারে ইসরায়েলি হামলার পর গালফের যৌথ প্রতিরক্ষা স্থাপনা আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
মালকম এইচ. কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের ননরেসিডেন্ট স্কলার ড. হেশাম আলঘান্নাম বলেন, “শুধু প্রতিরোধ-নীতিতে আর চলছে না। এখন প্রয়োজন সমন্বিত ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স নেটওয়ার্ক—যেখানে থাকবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, যৌথ পরিকল্পনা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্পষ্ট ভূমিকা।” তিনি রেড সি-র শিপিং লেন সুরক্ষা এবং সুদানের অস্থিতিশীলতার মতো উদীয়মান ঝুঁকিগুলো মোকাবিলারও আহ্বান জানান।
গাজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো, সিরিয়ার স্থিতি এবং সুদানের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান—সবই আলোচনার বড় অংশ দখল করবে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে শুধু আর্থিক অনুদানদাতা নয়, বরং সক্রিয় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।
আলঘান্নামের ভাষায়: “গালফকে আর শুধু চেক লেখার ভূমিকা পালন করলে চলবে না। গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরি।”
গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. আবদুলআজিজ সাগেরের পূর্বাভাস, শীর্ষ বৈঠকে ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা সংলাপের জন্য একটি যৌথ কাঠামো অনুমোদিত হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ—বিশেষ করে রেড সি ও হরমুজ প্রণালীর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে—এখন GCC-র প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার।
এই সম্মেলন গালফ রাষ্ট্রগুলোর নীতিতে একটি বড় রূপান্তর ইঙ্গিত করছে:
সংকট মোকাবেলা → দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্থাপনা
বিনিয়োগকারী → রাজনৈতিক-কৌশলগত নেতৃত্ব
বাহরাইন শীর্ষ বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা স্থাপত্যে GCC-র অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।