
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপ, কানাডা ও জাপানের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, পরিকল্পনাটিতে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকলেও সীমান্ত পরিবর্তন এবং ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সীমিত করার মতো প্রস্তাবগুলো “অতিরিক্ত কাজ” প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জি২০ সম্মেলনে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেনাবাহিনীর ওপর সীমা আরোপ ইউক্রেনকে ভবিষ্যৎ আক্রমণের মুখে দুর্বল করে দিতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২৮ দফার এই খসড়া তাঁর “চূড়ান্ত প্রস্তাব” নয়। তিনি বলেন, “কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধ শেষ করতেই হবে—আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি।”
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, দেশের জন্য এটি “ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়”, বিশেষত এমন এক পরিকল্পনা নিয়ে চাপ বাড়ছে যা অনেকের কাছে মস্কো–পন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন–সম্পর্কিত যেকোনো ধারা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সম্মতি প্রয়োজন।
জি২০ সম্মেলনে থাকা কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১১টি দেশের নেতার সই করা এই বিবৃতি যুদ্ধবিরতির কাঠামো কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে—
ইউরোপীয় দেশগুলো কি তাহলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চাইছে না, নাকি তারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও শক্ত অবস্থান চায়?
—যা এখন কূটনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।