
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত-মনোনীত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর স্ত্রী ডিয়ানে দাও আজ ঢাকায় পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়াকে তিনি ‘গর্বের’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ঢাকায় পৌঁছে ক্রিস্টেনসেন বলেন, “বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য সম্মানের। আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আমি কাজ করতে চাই। আমার স্ত্রী ও আমি এমন এক দেশে ফিরে এসে আনন্দিত, যেখানে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।”
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনকে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মার্কিন সিনেট আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন দেয়। এর আগে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং পরমাণু বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক উদ্যোগ তদারকি করেন।
জ্যেষ্ঠ ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা ক্রিস্টেনসেন এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনামে মার্কিন মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশে ও বিদেশে তাঁর অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দপ্তরের উপপরিচালক, উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, এবং মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে ফেলো হিসেবে কাজ করা। তিনি একসময় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশ ডেস্কের দায়িত্বেও ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ম্যানেজারিয়াল স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় সাবলীল এবং ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষা অধ্যয়ন করেছেন।
২০০২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হিউস্টন ও নিউইয়র্কে ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকার তথ্যমতে, নতুন রাষ্ট্রদূতের এই দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Photo: U.S Embassy in Dhaka,Bangladesh