বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট নতুন মোড় নিয়েছে। স্পেনের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ Mohammed bin Salman নাকি কাতালান জায়ান্ট FC Barcelona কিনতে প্রায় €১০ বিলিয়ন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। অঙ্কটি বাস্তবায়িত হলে ক্লাবের বিপুল ঋণ কার্যত শূন্যে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারত—তবে বাস্তবে এমন অধিগ্রহণ প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্পেনের জনপ্রিয় টিভি শো El Chiringuito-তে সাংবাদিক ফ্রাঁসোয়া গালার্দোর মন্তব্যের পরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাহন Public Investment Fund (PIF)–এর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই আগ্রহ। লক্ষ্য—বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব বাড়ানো এবং শীর্ষ ব্র্যান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌদির ‘ভিশন ২০৩০’ এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়া।
তবে সমস্যাটি কাঠামোগত। বার্সেলোনা কোনো করপোরেট মালিকানাধীন ক্লাব নয়; এটি ‘সোসিও’ বা সদস্য-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ ক্লাবের মালিকানা হাজার হাজার সদস্যের হাতে, যারা নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদ ঠিক করেন। ফলে কোনো ব্যক্তি বা বিদেশি সংস্থা সরাসরি ক্লাব কিনতে পারে না। সর্বোচ্চ যা সম্ভব, তা হলো ভবিষ্যতে ক্লাবের কোনো আলাদা বাণিজ্যিক শাখায় বিনিয়োগ—পূর্ণ মালিকানা নয়।
এই বাস্তবতায় স্পেনের ফুটবল মহলে ধারণা, কথিত €১০ বিলিয়নের প্রস্তাবটি হয়তো প্রতীকী বা অনুসন্ধানমূলক, তাৎক্ষণিক অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা নয়। তবু ফুটবল ইতিহাসে এমন অঙ্কের উল্লেখই নজিরবিহীন, যা বার্সেলোনার আর্থিক দুরবস্থাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
ক্লাবটির বর্তমান সংকটের শিকড় বেশ গভীরে। সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের শাসনামলে (২০২০ সালে যার মেয়াদ শেষ হয়) অতিরিক্ত ব্যয়, ইতিহাসের অন্যতম বড় বেতন কাঠামো এবং কোভিড-১৯–পরবর্তী আয়ের ধস মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এর ফল হিসেবে লা লিগার বেতনসীমা নিয়মে খেলোয়াড় নিবন্ধনে একের পর এক জটিলতা তৈরি হয়। নতুন খেলোয়াড় সই, চুক্তি নবায়ন—সবকিছুতেই ক্লাবকে ‘ইকোনমিক লিভার’ নামের অস্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে হয়।
বর্তমান সভাপতি Joan Laporta বারবার আর্থিক স্থিতিশীলতার আশ্বাস দিলেও বাস্তবতা কঠিন। ক্যাম্প ন্যু ও আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ‘এস্পাই বার্সা’র জন্য নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, পাশাপাশি La Liga–র কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে ক্লাবের আর্থিক নমনীয়তা এখনও সীমিত।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ফুটবলমুখী আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশল নতুন নয়। সৌদি প্রো লিগে তারকা খেলোয়াড়দের আগমন, ইউরোপীয় ক্লাব ও ইভেন্টে বিনিয়োগ—সবই বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বার্সেলোনাকে ঘিরে জল্পনাও সেই ধারাবাহিকতার সঙ্গে মানানসই। কিন্তু অর্থ যতই বিপুল হোক, বার্সেলোনার সদস্য-ভিত্তিক মালিকানা কাঠামো ভাঙার মতো কোনো আর্থিক প্রস্তাবই আপাতত নেই।
ফলে €১০ বিলিয়নের গুঞ্জন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা থাকলেও, এটি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর ভবিষ্যৎ এখন আর শুধু মাঠের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যেই তা নির্ধারিত হচ্ছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com
