
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে থাকা মূলত তাঁর নিজের “ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত”, যা নির্ভর করছে সেই “বিশেষ পরিস্থিতির” ওপর—যে পরিস্থিতি তাঁকে গত আগস্টে দিল্লিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছিল।
এইচটি লিডারশিপ সামিটে এক প্রশ্নের জবাবে, হাসিনা কি চাইলে অনির্দিষ্টকাল ভারতেই থাকতে পারবেন—জয়শঙ্কর বলেন, “তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, এবং ভবিষ্যতে কী হবে তা সেই প্রেক্ষাপটেই নির্ধারিত হবে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ তাঁর।”
ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সমর্থন করে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ছিল না। “যদি নির্বাচনই সমস্যা হয়ে থাকে, তবে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে নতুন রাজনৈতিক কাঠামোই গঠিত হোক না কেন, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে “সুষম ও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি” প্রতিফলিত করবে। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভবিষ্যতে উন্নতি দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনা ২০২4 সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে দেশত্যাগে বাধ্য হন। শতাধিক নিহত ও হাজারো আহত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং ভারতে আশ্রয় নেন।
সাম্প্রতিক এক রায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে—গত বছরের ছাত্র আন্দোলনে দমন-পীড়ন পরিচালনার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ডেকে আনে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com