
শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও আত্মত্যাগ স্মরণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
দিনের শুরুতে দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট, নৌ ও বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে ফজরের পর বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতীয় অগ্রগতি ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নতি কামনা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেন। সকালে তারা ঢাকার শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিনের মধ্যে তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টা এবং পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকার সেনা মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। এ সময় ১০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের হাতে শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেওয়া হয় বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এএফডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল ৪টায় সেনাকুঞ্জে আরেকটি বৃহৎ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টারা, বিদেশি কূটনীতিক, বিচারপতি, সচিববৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা সদস্যদের পরিবার, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্তরা, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজন।
এছাড়া বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনাসহ বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট ও ঘাঁটিতেও সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
Photo: Bangladesh ISPR