বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবেই সরকার গঠনের মতো আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।
শুক্রবার ঢাকায় দলের কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করলে তাহলে বিরোধী দল থাকবে কে?” তিনি যোগ করেন, জামায়াত যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি তাদের “একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল” হিসেবে দেখতে চান।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। গত বছর একটি যুবনেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনা তারেক রহমানের মা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী, যারা একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও এখন পুনরায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকারে ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জামায়াত নির্বাচনের পর একটি ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়।
তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেতে পারে বলে তারা আশা করছেন। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে রয়েছে জোটসঙ্গীরা। তারেক রহমান আসনের নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি না হলেও বলেন, “সরকার গঠনের মতো আসন আমরা অবশ্যই পাব।”
সব সাম্প্রতিক জনমত জরিপেই বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট—যার মধ্যে তরুণদের একটি নতুন দলও রয়েছে—কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকা–নয়াদিল্লি সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে এতে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে ভারতের বদলে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন অংশীদার যারা প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে।
“যে দেশ আমাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে জনগণের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, আমরা তার সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব—কোনো একটি দেশের সঙ্গে নয়,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। তারেক রহমান বলেন, তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারলেই প্রত্যাবাসন হওয়া উচিত। “পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা এখানে থাকতে স্বাগত,” বলেন তিনি।
কানাডিয়ান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের বক্তব্য আগামী নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বিএনপি একক ক্ষমতায় যাওয়ার পথেই এগোতে চায়।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com
Contact No : +8801999917584