ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে আয়োজিত উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনের অধিকার লাভ করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অন্তর্বর্তীকালীন শাসনপর্বের পর নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো এই শপথের মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে।
শপথ গ্রহণের পর প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
নবগঠিত মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর সামনে রয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় শিল্পোন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণও স্থান পেয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে নতুন সরকার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তবে নির্বাচনে জয়ের পরও রাজনৈতিক বিভাজন পুরোপুরি নিরসন হয়নি। সংবিধান সংশোধন, নির্বাচনব্যবস্থা ও সংসদীয় কার্যপ্রণালী নিয়ে বিরোধী পক্ষের আপত্তি সামনে আসতে পারে। ফলে নতুন সরকারের সামনে যেমন উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার দায়িত্ব।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব কত দ্রুত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।