বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাশিয়ার এই কূটনীতিক বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের সার্বভৌমত্ব অর্জনের দীর্ঘ যাত্রার সূচনা করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে উৎসারিত, যার ফলশ্রুতিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ অবস্থান তৈরি করেছে। বৈশ্বিক সংকটকালেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রশংসা করেন। বিশেষ করে সুন্দরবন, যা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, এবং দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণসহ দেশের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক যৌথ প্রকল্প ও পারস্পরিক লাভজনক উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হবে।
বার্তার শেষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।