ঢাকা — ২০২৬ সালের ১০ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে চলমান হাম (Measles) প্রাদুর্ভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূত্র, যার মধ্যে প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণ ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত, অনুযায়ী মার্চের মধ্যভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ৫১,৭০০-এর বেশি সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। একই সময়ে ৪০০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যার মধ্যে নিশ্চিত ও সন্দেহভিত্তিক উভয় ধরনের কেস অন্তর্ভুক্ত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ টিকাবিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংক্রমণের বিস্তারকে আরও দ্রুততর করেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের টিকাদান কর্মসূচির নীতিগত পরিবর্তন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শিশুদের হাম টিকাদান কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) পূর্বে একাধিকবার সতর্ক করে বলেছিল, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটলে হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সতর্কবার্তাগুলো আবারও সামনে আসছে।
দেশজুড়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকে এটিকে নীতিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় না করা হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।