রাশিয়া বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে ইউক্রেনে যদি কোনো পশ্চিমা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়, তবে সেগুলোকে মস্কো “বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করবে। কিয়েভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সদ্য স্বাক্ষরিত প্যারিস ঘোষণাকে ঘিরে এই হুঁশিয়ারি এসেছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সমর্থিত এই ঘোষণা শান্তির পথে নয়, বরং ইউক্রেনকে আরও বেশি সামরিকীকরণ এবং সংঘাতকে তীব্র করার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বিশেষভাবে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠন এবং ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তার বিষয়টিতে আপত্তি তোলেন। জাখারোভার ভাষ্য, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সেনা, সামরিক অবকাঠামো বা স্থাপনা থাকলে মস্কো তা সরাসরি বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখবে। “এ ধরনের সব ইউনিট ও স্থাপনা রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে,” বলেন তিনি। যোগ করেন, “এই সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আগেও বহুবার দেওয়া হয়েছে এবং তা এখনো প্রযোজ্য।”
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার জানান, শান্তি চুক্তি হলে ইউক্রেনে বাহিনী মোতায়েনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি ‘ডিক্লারেশন অব ইনটেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য সামরিক হাব ও স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্যারিসে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, “এটি এমন একটি আইনি কাঠামোর পথ খুলে দিচ্ছে, যার আওতায় ব্রিটিশ, ফরাসি ও অংশীদার বাহিনী ইউক্রেনের মাটিতে কাজ করতে পারবে—ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্র নিরাপদ রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে পুনর্গঠন করতে।”
তিনি আরও জানান, তিনটি বিষয়ে অতিরিক্ত পদক্ষেপে ঐকমত্য হয়েছে: প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যেকোনো যুদ্ধবিরতির নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ; দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র সরবরাহে সহায়তা; এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে রাশিয়ার কোনো আক্রমণ হলে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতির পথে কাজ করা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার বলেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত নথিটি মূলত “মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চূড়ান্ত করার জন্য প্রস্তুত।” তিনি জানান, যুদ্ধ শেষ করার মৌলিক কাঠামো নিয়ে জটিল বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে এবং ইউক্রেনীয় পক্ষ নথিটি চূড়ান্ত করার সম্ভাব্য বিকল্প প্রস্তাব করেছে। “আমরা বুঝতে পারছি, আমেরিকান পক্ষ রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলবে, এবং আমরা আশা করছি আগ্রাসী পক্ষ সত্যিই যুদ্ধ শেষ করতে চায় কি না—সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে,” যোগ করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে ঘিরে পশ্চিমা নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও রাশিয়ার কড়া অবস্থান—দুই মেরুর টানাপোড়েনই ইউরোপীয় ভূরাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com