ইউরোপভিত্তিক পাঁচটি আন্তর্জাতিক অধিকারসংগঠন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশে লক্ষ্যভিত্তিক বিচার প্রক্রিয়া ঠেকাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
বিবৃতিতে সই করেছে ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইইউ ও যুক্তরাজ্য), আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক, ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স, সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম (বেলজিয়াম) এবং জার্মানিভিত্তিক ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ।
লন্ডনভিত্তিক জোটটি জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেমোক্র্যাসি–হিউম্যান রাইটস–লেবার ব্যুরো, ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন ও কমনওয়েলথ সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষ প্রতিবেদকদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করেছে।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে গঠিত ট্রাইব্যুনাল তার নীতিগত কাঠামো থেকে সরে গিয়ে এমন বিচার পরিচালনা করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিশেষ করে অনুপস্থিত আসামির বিরুদ্ধে রায় ও মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তারা আরও উল্লেখ করেছে—সাংবিধানিক বৈধতার ঘাটতি, বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব, অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া করে মামলা নিষ্পত্তি, পর্যাপ্ত আইনগত সহায়তার অভাব, আসামি ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং সম্ভাব্য যোগসাজশ—এসব বিষয় আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।