গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক প্রেসিডেন্টের নামে এমন প্রস্তাব উঠে এসেছে, যেখানে ডেনমার্কসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।
ছবিতে দেখা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের ভূরাজনৈতিক তৎপরতার কারণে গ্রিনল্যান্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বহু বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার সুবিধা পেয়ে আসছে, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং “কঠোর পদক্ষেপ” নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে। পরে ১ জুন ২০২৬ থেকে এই হার বাড়িয়ে ২৫% করা হবে, যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একটি বৃহৎ “ডোম” বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ডেনমার্ক ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র “তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত”।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি। ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য শুল্ককে এভাবে ভূখণ্ড বা নিরাপত্তা আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বাজারের জন্য এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ঘিরে ভূরাজনৈতিক বক্তব্য এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে যদি এই ধরনের প্রস্তাব বাস্তব নীতিতে রূপ নিতে শুরু করে।