• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশি কোহলির স্বপ্নপূরণ, আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: মধ্যরাত থেকে অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ টাকা ৩এমের বিরুদ্ধে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের মামলা করল অস্ট্রেলিয়া ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ চান ট্রাম্প, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধস: মৃত বেড়ে ৩, এখনও নিখোঁজ ১৭ ব্লু অরিজিনে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা, ফ্লোরিডায় ৫০০ নতুন চাকরি ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন টালসি গ্যাবার্ড, স্বামীর বিরল অস্থি ক্যানসারের চিকিৎসায় মনোযোগ দেবেন

নির্বাসন থেকে নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা শেখ হাসিনার: ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোট ছাড়া বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়বে’

Reporter Name / ৩৬৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে নির্বাসনে বসে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে পাঠানো এক ইমেইলে হাসিনা বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।” তাঁর অভিযোগ, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর দলের কোটি কোটি সমর্থককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

“যখনই জনগণের একটি বড় অংশকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়, তখন ক্ষোভ বাড়ে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং ভবিষ্যৎ অস্থিরতার বীজ বপন হয়,” লিখেছেন হাসিনা। তাঁর ভাষায়, “বর্জনের ওপর দাঁড়ানো সরকার কখনো বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না।”

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট, দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার অংশ নিতে পারবেন। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন ও সহিংস বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তিন দিন পর দেশে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সরকার নির্বাচন ও একটি প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক গণভোট তদারকি করছে। তবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইউনূসের দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা চাপ প্রয়োগ মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথসহ প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট বাড়ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

‘জাতিকে ক্ষত সারাতে হবে’

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে শতাধিক মৃত্যুর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার পর শেখ হাসিনা ওই আদালতকে “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এপি-কে দেওয়া বার্তায় হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগোতে হলে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বর্জনের চক্র থেকে বের হতে হবে। “দেশের প্রয়োজন একটি বৈধ সরকার, যারা জনগণের প্রকৃত সম্মতিতে দেশ পরিচালনা করবে,” তিনি লিখেছেন। “এটাই জাতির ক্ষত সারানোর সবচেয়ে ভালো পথ।”

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—যেখানে নির্বাচন শুধু সরকার বদলের প্রশ্ন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

bdit.com.bd