বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে একযোগে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব সংস্থা “যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী”, “অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল” এবং “রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও অতিরিক্তভাবে জলবায়ু, অভিবাসন ও তথাকথিত ‘ওক’ (woke) এজেন্ডা” প্রচারে যুক্ত।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের জলবায়ু কাঠামো (UNFCCC), UN Women, UN Population Fund (UNFPA), UN Habitat, UN University, IPCC, IPBES সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
এই তালিকায় রয়েছে—
জলবায়ু ও পরিবেশ:
Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)
UN Framework Convention on Climate Change (UNFCCC)
Intergovernmental Science-Policy Platform on Biodiversity (IPBES)
নারী ও মানবাধিকার:
UN Women
UN Population Fund (UNFPA)
Office on Violence Against Children
শিক্ষা ও উন্নয়ন:
Education Cannot Wait
UN Institute for Training and Research (UNITAR)
UN Democracy Fund
ডিজিটাল ও নিরাপত্তা:
Freedom Online Coalition
Global Counterterrorism Forum
Global Forum on Cyber Expertise
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য:
International Centre for Preservation and Restoration of Cultural Property
এছাড়াও আছে International Renewable Energy Agency, International Union for Conservation of Nature, UN Water, UN Oceans সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“এই সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ অপচয় করছে এবং আমাদের সার্বভৌম নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপ করছে।”
প্রশাসনের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কেবল সেইসব আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হবে যেগুলো সরাসরি আমেরিকার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থে কাজ করবে।
কূটনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন বহুপাক্ষিকতা-বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একাধিক ইউরোপীয় কূটনীতিক ব্লুমবার্গকে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত—
বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনাকে দুর্বল করবে
জাতিসংঘের প্রভাব কমাবে
এবং চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বাড়াবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র—
বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে নেতৃত্ব হারাবে
আন্তর্জাতিক মান ও নিয়ম তৈরিতে প্রভাব কমবে
কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক দুর্বল হবে
এই পদক্ষেপটি এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন “America First International Reset” নীতির অংশ হিসেবে, যেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
For advertisement,write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com