২৫ ডিসেম্বর — খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ বৈশ্বিক আর্থিক বাজার এবং সীমিত কার্যক্রম চলছে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে।
বড়দিন যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে পালিত হলেও সময়ের সঙ্গে এটি একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উপলক্ষে রূপ নিয়েছেযার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভ্রমণ, খুচরা বাণিজ্য ও ভোক্তা ব্যয়।
খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার বছর আগে বেথলেহেমে যিশু খ্রিস্টের জন্ম হয়। যদিও তাঁর জন্মের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবুও চতুর্থ শতাব্দী থেকে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্বজুড়ে গির্জাগুলোতে মধ্যরাতের প্রার্থনা, বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভ্যাটিকানে পোপের নেতৃত্বে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বড়দিনের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ।
বড়দিনের উদযাপন দেশভেদে ভিন্ন রূপ নেয়—
ইউরোপ: যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতে ধর্মীয় প্রার্থনার পাশাপাশি পরিবারকেন্দ্রিক উদযাপন ও রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্তা প্রচার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: উপহার বিনিময়, পারিবারিক জমায়েত এবং বড়দিনকেন্দ্রিক খুচরা বাণিজ্য ব্যাপক গুরুত্ব পায়।
লাতিন আমেরিকা: মধ্যরাতের ভোজ, ধর্মীয় শোভাযাত্রা এবং জনসমাগমপূর্ণ উদযাপন দেখা যায়।
এশিয়া-প্যাসিফিক: ফিলিপাইনে দীর্ঘ সময় ধরে বড়দিন পালিত হয়, আর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে গ্রীষ্মকালীন বড়দিন উপলক্ষে খোলা জায়গায় অনুষ্ঠান ও সমুদ্রতীরে জমায়েত হয়।
বড়দিনকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক ভোক্তা ব্যয়, পর্যটন এবং পরিবহন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তবে উৎসবের দিনে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারগুলো বন্ধ বা সীমিত লেনদেনে থাকে, যা বছর শেষের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে একটি স্বাভাবিক বিরতি তৈরি করে।
বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য সত্ত্বেও বড়দিন বিশ্বজুড়ে একটি সম্মিলিত বিরতির দিন হিসেবে বিবেচিত হয়—যেখানে পরিবার, মানবিকতা ও সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বছরের শেষপ্রান্তে এসে বড়দিন বিশ্ববাসীকে আত্মসমালোচনা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা দেয়।