ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২,০০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি। সহিংস দমন-পীড়নের মধ্যেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, “সহায়তা আসছে।”
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে প্রায় ১,৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী, ১৩৫ জন সরকারপন্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া নয়জন শিশু এবং নয়জন নিরপেক্ষ বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৬,৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
একজন ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২,০০০।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে “ইরানি দেশপ্রেমিকদের” আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের কথা বলেন। তিনি লেখেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বাতিল থাকবে। পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন, “HELP IS ON ITS WAY. MIGA!!!” — অর্থাৎ “মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন।”
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তারা “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হবে।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এই বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময়কার অস্থিরতার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে সরকারবিরোধী রূপ নেয়।
তেহরানের কিছু বাসিন্দা বিদেশে ফোন করতে পারলেও ইন্টারনেট ও মেসেজিং পরিষেবা এখনও ব্যাপকভাবে বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় ভারী অস্ত্র ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম নিয়ে টহল দিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে, কর্তৃপক্ষ স্টারলিংক স্যাটেলাইট টার্মিনাল খুঁজতে বাসাবাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরকারপন্থী বড় সমাবেশের দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে, যেখানে “মৃত্যু আমেরিকা” ও “মৃত্যু ইসরায়েল” স্লোগান শোনা যায়। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের “ঈশ্বরের শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এই তালিকায় চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশ রয়েছে।