ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সোমবার তেহরানের রাস্তায় নেমেছে দশ হাজারের বেশি সরকারপন্থী সমর্থক। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে দেখানো হয়েছে, রাজধানীর ‘ইংলাব স্কয়ার’ বা ইসলামি বিপ্লব স্কয়ারের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যাচ্ছে জনতা। সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বিক্ষোভের পেছনের মূল কারণ—দেশের গভীর অর্থনৈতিক সংকট—প্রায় এড়িয়ে গিয়ে এই সমাবেশকে আখ্যা দিয়েছে “আমেরিকা-জায়নিস্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান” হিসেবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান তার সামরিক হামলার হুমকির পর আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার হওয়ায় উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহে ১০,৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মোট ৫৪৪ জন নিহতের মধ্যে ৪৯৬ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ইরানের ভেতরে তাদের সমর্থকদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি, যদিও এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন এবং ফোন লাইন কাটা থাকায় দেশের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তারা হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকারও এখনো কোনো সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই তথ্যব্ল্যাকআউট নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া দমন-পীড়ন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিক্ষোভের মূল পটভূমিতে রয়েছে একাধিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ। জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে ইরানের মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড পতনের মুখে পড়ে বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ রিয়ালের বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দলের মুখপাত্র ওমর চেলিক বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেশটির নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। “আমরা কখনোই আমাদের প্রতিবেশী ইরানে অরাজকতা কামনা করি না,” বলেন তিনি। চেলিক আরও সতর্ক করেন, বাইরের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে যদি তা “ইসরায়েলি উসকানির” ফল হয়।
ইরান এখন একদিকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপের দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে—যার পরিণতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com