মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার সকালে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮.৬% বেড়ে দাঁড়ায় ৭২.৭৯ ডলারে, যা শুক্রবার ছিল প্রায় ৬৭ ডলার। ব্রেন্ট ক্রুডও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে।
বাজার এখন সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে। পরিস্থিতি আরও চার সপ্তাহ স্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে, বাণিজ্য ব্যাহত করবে এবং অনেক দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
তবে তেলের উচ্চমূল্য থেকে সুবিধা পেতে পারে প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের শেল উৎপাদকরা। সামনের দিনগুলোতে সংঘাতের বিস্তার এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক থাকে কিনা—তার ওপরই নির্ভর করবে বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা।