আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) জানিয়েছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল কিন্তু খুব বেশি গতিশীল নয়—এমন প্রবৃদ্ধির ধারায় চলবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির তুলনায় এগিয়ে থাকবে এবং উদীয়মান দেশগুলোই বহন করবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির মূল ভার।
IMF-এর World Economic Outlook Update (January 2026) অনুযায়ী,
২০২৬ সালে বৈশ্বিক উৎপাদন ৩.৩% এবং ২০২৭ সালে ৩.২% বাড়বে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত।
এই স্থিতিশীলতার আড়ালে রয়েছে আঞ্চলিক বৈষম্য বাড়ার বাস্তবতা—উত্তর আমেরিকা ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী, আর এশিয়া রয়ে যাচ্ছে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রধান ইঞ্জিন।
IMF-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী,
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ২.৪% হারে বাড়বে এবং ২০২৭ সালে তা কমে ২.০% হবে। শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদা এবং প্রযুক্তি ও অবকাঠামোয় ধারাবাহিক বিনিয়োগ দেশটিকে প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রেখেছে।
অন্যদিকে,
ইউরো অঞ্চল ২০২৬ সালে মাত্র ১.৩% এবং ২০২৭ সালে ১.৪% হারে বাড়বে। দুর্বল উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘদিনের কঠোর আর্থিক নীতির প্রভাব ইউরোপের অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে রেখেছে।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি ২০২৫ সালের প্রায় স্থবির অবস্থা কাটিয়ে
২০২৬ সালে ১.১% এবং ২০২৭ সালে ১.৫% প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে পারে।
তবে ফ্রান্স ও ইতালি এখনও প্রায় ১% প্রবৃদ্ধির আশপাশেই আটকে আছে।
স্পেন ইউরোপে ব্যতিক্রম হিসেবে থাকলেও, দেশটির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ২.৯% থেকে ২০২৭ সালে ১.৯%-এ নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও দুর্বলই থাকছে—
২০২৬ সালে ০.৭% এবং ২০২৭ সালে ০.৬% প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস, যার পেছনে রয়েছে জনসংখ্যাগত সংকট ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা।
সব মিলিয়ে,
উন্নত দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে হবে মাত্র ১.৮% এবং ২০২৭ সালে ১.৭%, যা ধনী দেশগুলোর কাঠামোগত মন্থরতার দিকটি স্পষ্ট করে।
IMF-এর হিসাব অনুযায়ী,
উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০২৬ সালে ৪.২% এবং ২০২৭ সালে ৪.১% হারে বাড়বে, যা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এশিয়া এখানেও সবচেয়ে এগিয়ে।
ভারত ২০২৬ ও ২০২৭—দুই বছরেই ৬.৪% হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির অবস্থান আরও শক্ত করবে।
এর বিপরীতে,
চীনের প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমছে—
২০২৬ সালে ৪.৫% এবং ২০২৭ সালে ৪.০%। এর পেছনে রয়েছে রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট, জনসংখ্যাগত চাপ এবং স্থানীয় সরকারের ঋণ সমস্যা।
ল্যাটিন আমেরিকায় ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২.৭% হতে পারে।
এ সময় মেক্সিকো ২.১% এবং ব্রাজিল দুর্বল ২০২৬ সালের পর আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৭ সালে প্রায় ৪% হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাব-সাহারান আফ্রিকা শক্তিশালী ৪.৬% হারে বাড়বে, যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
IMF বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর কড়া সুদহার বৃদ্ধির পরও বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দা এড়াতে পেরেছে। তবে নীতিনির্ধারকদের এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।
IMF-এর ভাষায়:
“বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আশ্চর্যজনকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, মধ্যমেয়াদি ভবিষ্যৎ ক্রমেই নির্ধারিত হচ্ছে উন্নত দেশগুলোর দুর্বল উৎপাদনশীলতা এবং প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর কাঠামোগত মন্থরতার দ্বারা।”
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট:
প্রবৃদ্ধি থাকবে, কিন্তু তা হবে অসম, অঞ্চলভিত্তিকভাবে বিভক্ত, এবং ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে উদীয়মান দেশগুলোর ওপর, যারা ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
For advertisement, write : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com