ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। “জনস্বার্থে” সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে সরকার দেশে আইপিএল ২০২৬-এর টেলিভিশন ও ডিজিটাল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
রোববার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ফিরোজ খান।
২০০৮ সালে আইপিএল শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে এই টুর্নামেন্ট সম্প্রচার হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো আসরের সম্প্রচার এই প্রথম বাংলাদেশ সরকারিভাবে বন্ধ করল।
এর আগে শনিবার আইপিএল নিলামে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেয়। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া কেবল “সাম্প্রতিক পরিস্থিতির” কথা উল্লেখ করেন।
গত কয়েক দিনে ভারতের কয়েকজন আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা কেকেআর এবং তাদের মালিক শাহরুখ খানের সমালোচনা করেন। অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার খবরের মধ্যে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। এর প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবেদন করেছে, যাতে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হয়। রোববার রাতে বিসিবি নিশ্চিত করে, তারা এ বিষয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে এবং একই সঙ্গে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে প্রত্যাহারের কারণ জানতে বিসিসিআইয়ের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচার না করার পক্ষে মত দেন। পরে তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, আইনি দিক পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে একাধিক ক্রিকেটার বিভিন্ন সময়ে এই লিগে খেলেছেন। আসন্ন মৌসুমে মুস্তাফিজই ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় যাকে কোনো দল দলে নিয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে তিনি নিয়মিত আইপিএল খেলছেন। এর আগে সাকিব আল হাসানও কেকেআর ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
আইপিএলে অংশ নেওয়া অন্যান্য বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। আইপিএল ২০২৬ মৌসুম শুরু হওয়ার কথা আগামী ২৬ মার্চ।
এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynews@gmail.com