যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১০% শুল্কের আওতায় বাংলাদেশ, ৬০ দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) এক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন শুল্ক Trade Act of 1974-এর Section 301-এর আওতায় আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বহু দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে এবং কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদাররাও একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করবে।
নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত বৈশ্বিক আমদানির ওপর একটি ন্যূনতম ট্যারিফ কাঠামো বজায় রাখল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা তথাকথিত “রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ” বাতিল করে দেওয়ার পর প্রশাসন বিকল্প আইনি ভিত্তি হিসেবে Section 301 ব্যবহার করছে।
নতুন শুল্ক প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ মার্কিন আমদানির আওতায় পড়লেও অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এতে ছাড় পেয়েছে। এছাড়া ২৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রগামী পথে থাকা পণ্য নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ একাধিক দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের অন্যতম বৃহৎ বাজার। নতুন শুল্কের ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাজার সম্প্রসারণের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে পণ্যের ধরন ও বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারিত হবে।