ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এটাই ছিল আমার একমাত্র চাওয়া।” ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পর্যন্ত ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
ফ্রান্সের ২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে বিদায়ের পর ১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানেন দেশটির ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়ের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশঁ। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ৫৪ বছর বয়সী জিদান, যিনি ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়ার পর থেকে কোচিংয়ের বাইরে ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জিদান বলেন, ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া তাঁর জন্য “অপরিসীম গর্বের” বিষয়।
“আমি বহুবার বলেছি, ফ্রান্স জাতীয় দলের চেয়ে বড় কিছু নেই। এই দলের কোচ হওয়া আমার জন্য আনন্দের, একই সঙ্গে বিশাল গর্বের বিষয়। তবে এটি বড় দায়িত্বও,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো, নির্বাহী কমিটি এবং ফেডারেশনকে তাদের আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে দিদিয়ের দেশঁ ও তাঁর কোচিং স্টাফের ১৪ বছরের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমার সব কোচের প্রতিও আজ বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ফ্রান্সকে নিয়ে আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক বড়।”
ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জিদানকে ফরাসি ফুটবলের “জীবন্ত কিংবদন্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “জিদানের নিয়োগ ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। একজন কিংবদন্তি ফুটবলার এবং আধুনিক প্রজন্মের অন্যতম সফল ও সম্মানিত কোচের সঙ্গে ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন যাত্রা শুরু হলো।”
দেশঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স গত ১৪ বছরে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছায় এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়।
জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, উয়েফা নেশনস লিগে তুরস্কের মাঠে।