দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় টানা মৌসুমি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। শনিবার, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দেশজুড়ে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানেও ব্যাপক তৎপরতা চলছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মৃতের সংখ্যা ৩০০-এর ঘরে পৌঁছেছে—উত্তর সুমাত্রায় ১৬৬ জন, আচেহ প্রদেশে ৪৭ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রায় অন্তত ৯০ জন নিহত। এখনও ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ, ফলে প্রকৃত মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
আচেহ প্রদেশের পিদি এলাকার বাসিন্দা নোভিয়া জানান, “পানি নেমেছে, কিন্তু বাড়িজুড়ে পুরু কাদা। জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত, কিছু পড়ে আছে—পরিষ্কার করতেই পারছি না।” স্থানীয় কমিউনিটি সদস্যরা একসঙ্গে কাদা পরিষ্কারে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে ফিরদা ইউসরা পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে স্থানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। “যা পাওয়া যায় তাই খেয়ে টিকে আছি,” তিনি বলেন।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সঙখলা প্রদেশে পানির উচ্চতা তিন মিটারে পৌঁছেছে—প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বন্যা পরিস্থিতি। হতাহতের সংখ্যা ১৬২-তে দাঁড়িয়েছে। হাট ইয়াইয়ের একটি হাসপাতালে মরদেহ রাখার জায়গা কম পড়ায় অতিরিক্ত দেহ সংরক্ষণে রেফ্রিজারেটেড ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে।
থাই প্রধানমন্ত্রী অনুটিন চার্নভিরাকুল পরিস্থিতির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ক্ষতি ও প্রাণহানি মানেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায় আমারই।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিচ্ছন্নতার জন্য দুই সপ্তাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ঘোষণা দেন এবং জানান যে সরকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সব সক্ষমতা কাজে লাগাবে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com