জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। সময় নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চুক্তিটি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে স্বাক্ষর হওয়ার কথা, যদিও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এক দিন আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক. বশির উদ্দিন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে অনলাইনে স্বাক্ষর করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা, যেটিতে তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরিত কপি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবেন পাঁচ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দল।
নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো—এ প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকেরা। তাঁদের মতে, রপ্তানি কাঠামো, রাজস্ব নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন চুক্তির বিষয়ে জনসমক্ষে বিস্তারিত আলোচনা বা সংসদীয় পর্যালোচনা না থাকায় সাধারণ ভোটাররা কার্যত অন্ধকারেই রয়ে গেছেন।
আরও বিস্ময়কর হলো, বড় বিরোধী দলগুলোর নীরবতা। এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিংবা জামায়াতে ইসলামী। সমালোচকদের মতে, এমন নীরবতা জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক চিন্তা ও অবস্থানের দুর্বলতাই তুলে ধরে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তিটি নিয়মিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নির্বাচন-পূর্ব মুহূর্তে স্বাক্ষরের সময় ও চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ না হওয়ায় আস্থা সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। এখন নজর রয়েছে—নতুন সংসদ গঠনের পর চুক্তিটি নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন বা পূর্ণাঙ্গ প্রকাশের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না। আপাতত, সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক নীরবতার কারণে চুক্তিটি প্রশ্নের মুখেই রয়ে গেছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com