ঢাকা সহিংসতার আগুনে মুহূর্তের মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের দুই শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের সংবাদকক্ষ। ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এবং বাংলা দৈনিক প্রথম আলো–এর কার্যালয়ে চালানো ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে কার্যত অচল হয়ে যায় সংবাদ উৎপাদন ব্যবস্থা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি হঠাৎ করেই কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই নিউজরুম ও প্রশাসনিক অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ডেস্ক, কম্পিউটার, সার্ভার ও সংরক্ষণাগার ভেঙে ফেলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম লুট করে নেওয়া হয় এবং ভবনের একাধিক স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘন ধোঁয়া ও আগুনে পুরো ভবন আতঙ্কে ঢেকে পড়ে।
সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন ২৮ জন সাংবাদিক ও কর্মী। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তারা বের হতে না পেরে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পর আটকে পড়া সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযান শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও সংবাদকক্ষের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় অবকাঠামোগত ধ্বংস, ডিজিটাল তথ্য ক্ষতি এবং প্রকাশনা সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু দুটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়; এটি দেশের গণমাধ্যমের নিরাপত্তা, সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ এবং তথ্যপ্রবাহের ওপর সরাসরি আঘাত। এই হামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংবাদমাধ্যম অঙ্গনে এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com