দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) রেলহেড ডিপোতে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। ডিপো কর্মকর্তাদের মতে, সোমবার ও মঙ্গলবার (৯–১০ মার্চ ২০২৬) দুই দিনে মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে।
অসমের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের মার্চে চালু হয়। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরে ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। পরবর্তী তিন বছরে তা বাড়িয়ে ৩ লাখ টন এবং শেষ চার বছরে ৫ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, চলতি মাসে চাহিদা মেটাতে বিপিসি অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, “বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তাই অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।”
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবে অতিরিক্ত মজুত প্রতিরোধে পাম্পগুলোকে কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী স্থলবন্দর থেকে আসা একটি পেট্রোল পাম্পের ট্যাংকারচালক বকুল চন্দ্র রায় বলেন, “প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষার পর ডিপো থেকে তেল পেয়েছি, কিন্তু চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আগে কখনো এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।”
ডিপোর শ্রমিকরাও জানিয়েছেন, ট্যাংকারে লোডিং কমে যাওয়ায় তাদের কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৩৫০–৪০০টি ট্যাংকারে জ্বালানি ভরা হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০–১৫০টিতে। ফলে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের অর্ধেকের বেশি নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না।
১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মধ্যে ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত। বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে এ পাইপলাইনের, এবং জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে সাধারণত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার চালান পৌঁছালে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।