যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আসন্ন চীন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী করপোরেট নেতাদের সঙ্গে নিচ্ছেন। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, তাইওয়ান, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও ইরান যুদ্ধসহ একাধিক স্পর্শকাতর বৈশ্বিক ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্পের আমন্ত্রিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলে রয়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক, বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ, ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, সিটিগ্রুপের জেন ফ্রেজার, গোল্ডম্যান স্যাকসের ডেভিড সলোমন, কোয়ালকমের ক্রিস্টিয়ানো আমন, মাইক্রনের সঞ্জয় মেহরোত্রা, মাস্টারকার্ডের মাইকেল মিয়েব্যাক, ভিসার রায়ান ম্যাকইনার্নি ও জিই অ্যারোস্পেসের এইচ. লরেন্স কাল্প জুনিয়রসহ আরও বহু শীর্ষ নির্বাহী।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি, বিনিয়োগ সমঝোতা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে এআই প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং প্রতিনিধিদলে নেই। যদিও সম্প্রতি তিনি বলেন, আমন্ত্রণ পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করা তার জন্য “সম্মানের” বিষয় হতো। এছাড়া জেনারেল মোটরস, ডিজনি ও অ্যালফাবেটের মতো চীনে বড় স্বার্থ থাকা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও তালিকায় দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ভূরাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যের জন্যও বড় বার্তা বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট জায়ান্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন নতুন করে বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছে, যদিও প্রতিযোগিতা ও অবিশ্বাস এখনো গভীর।