বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর সংকট আরও স্পষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত দেড় বছরে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে ৩২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মহীন হয়েছেন দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে বন্ধ হয়েছে ১৮৮টি কারখানা। এর ফলে বেকার হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৯ জন শ্রমিক। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানার কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৯০ হাজার ৭৬০ জন।
বন্ধ হয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বেক্সিমকোর ১৩টি ইউনিট
ডার্ড কম্পোজিট
সিজন ড্রেসেস
পলিকন লিমিটেড
টেক্সটাইল ফ্যাশন
স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক
লা-মুনি অ্যাপারেলস
নাসা গ্রুপের লিজ ফ্যাশন
স্বাধীন গার্মেন্ট
মিককিফ অ্যাপারেলস
গাজীপুরের কোনাবাড়ীর নীলনগরের মুকুল নিটওয়্যার লিমিটেড গত ১৭ ডিসেম্বর স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ২৮০ জন পুরুষ ও ৩৯০ জন নারী শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েন।
গত দেড় বছরে সাভার ও আশুলিয়ায় বন্ধ হয়েছে ১৩৯টি কারখানা। এর মধ্যে:
স্থায়ীভাবে বন্ধ: ৬৭টি
অস্থায়ীভাবে বন্ধ: ৭২টি
এতে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।
স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানার মধ্যে রয়েছে:
জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন
দ্য ড্রেসেস অ্যান্ড দি আইডিয়াস
বসুন্ধরা গার্মেন্টস
ছেইন অ্যাপারেলস
নাসা গ্রুপ
সাউথ চায়না গ্রুপ
ইথিক্যাল গার্মেন্টস
অস্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে:
সিঙ্গার রেফ্রিজারেটর ও ইলেকট্রনিকস
এফআরএম ফ্যাশন হাউস
হিলটন অ্যাপারেলস
মুলনাক্স কম্পোজিট নিট
রংধনু স্পিনিং মিলস
মনিকা অ্যাপারেলসসহ আরও বেশ কয়েকটি কারখানা।
শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে:
জ্বালানি সংকট
ব্যাংকিং খাতে অসহযোগিতা
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা
ক্রয়াদেশ বাতিল
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
রাজনৈতিক অস্থিরতা
শ্রমিক আন্দোলন ও ভাঙচুর
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মো. আমজাদ হোসেন জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাসে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে।
কারখানা বন্ধ হওয়ায়:
শ্রমিকরা গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন
ঘরভাড়া ও দোকানপাট ফাঁকা পড়ে আছে
স্থানীয় বাজারে বিক্রি কমে গেছে ৫০–৭০ শতাংশ পর্যন্ত
অনেক শ্রমিক রিকশা চালানো, দিনমজুরি বা ছোটখাটো ব্যবসায় নেমেছেন
কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে
কাশিমপুর ও আশুলিয়ার বহু বাড়িওয়ালা জানান, শত শত কক্ষ খালি পড়ে আছে, অথচ এসব বাড়ি করতে নেওয়া ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করা যাচ্ছে না।
নাসা গ্রুপের সাবেক শ্রমিক আলেয়া আক্তার চার মাস ধরে বেকার। তিনি বলেন,
“এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। কাজ কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।”
জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক জোটের নেতা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন,
“একদিকে কারখানা বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। এতে গাজীপুর ও আশুলিয়ার শ্রমিক জনপদে চরম দুঃসময় নেমে এসেছে।”
কালের কণ্ঠে তথ্য ও পরিসংখ্যান সূত্রে ।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com