ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। একই সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে “নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে” বলে মন্তব্য করে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, শনিবার দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বিক্ষোভের সময়কার সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন এবং বলেন, কিছু মানুষ “অমানবিক ও নৃশংসভাবে” প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে দ্রুতই ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির হিসাবে, প্রায় তিন সপ্তাহের অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হতে পারে, যদিও ইরান সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
বিবিসি জানায়, দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাইবার নজরদারি সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের মাত্র প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসে। বিবিসি পার্সিয়ান ও বিবিসি ভেরিফাই যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবার সময় এসেছে।” খামেনির একাধিক কড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্পকে সহিংসতার জন্য দায়ী করার পর এই মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “একজন দেশের নেতার দায়িত্ব তার দেশকে ধ্বংস করা বা নজিরবিহীন মাত্রায় সহিংসতা চালানো নয়। নেতৃত্ব মানে ভয় ও মৃত্যুর রাজনীতি নয়, বরং সম্মান অর্জন করা।”
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই স্বীকারোক্তি এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে, এমন সময়ে যখন দেশটির ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।








