তেহরান | YNews ডেস্ক | ২০২৬
ইরানে টানা ১৩ দিনের বিক্ষোভ দেশটির শাসনব্যবস্থাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে গত কয়েক দশকের মধ্যে। ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার মাঝেও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়।
নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি-র আহ্বানে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালিয়ে, ধ্বংসস্তূপের মাঝে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে দেশে বড় আকারের অস্থিরতা চলছে। তবে তারা দাবি করেছে, এই সহিংসতার পেছনে রয়েছে “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী”। তারা “হতাহতের” কথাও বলেছে, যদিও সঠিক সংখ্যা জানায়নি।
৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেয়া ভাষণে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। ভাষণের সময় উপস্থিত সমর্থকরা স্লোগান দেয়: “মৃত্যু আমেরিকার!”
খামেনি বলেন:
“এরা নিজেদের রাস্তাই ধ্বংস করছে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে,”
— ইঙ্গিত করে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দিকে।
সরকার ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেও, প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন।
এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ থেকে, যা এখন সরাসরি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
এই বিক্ষোভের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বহু জায়গায় শোনা যাচ্ছে ইরানের সাবেক শাহের পক্ষে স্লোগান — যা এক সময় মৃত্যুদণ্ডের শামিল ছিল। এটি প্রমাণ করে জনগণের ক্ষোভ কতটা গভীরে পৌঁছেছে।
এটাই প্রথম বড় পরীক্ষা, যেখানে দেখা যাচ্ছে জনগণ নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি-র আহ্বানে কতটা সাড়া দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Human Rights Activists সংস্থার তথ্যমতে:
এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত
২,২৭০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com