ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি “আঞ্চলিক যুদ্ধ” ডেকে আনবে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর পদক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের সামরিক হুমকির ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির এই বক্তব্য এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী ও সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজগুলো আরব সাগরে অবস্থান নিয়েছে। ইরানে সাম্প্রতিক সহিংস দমন অভিযানের পর এই মোতায়েনকে শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্লেষকরা।
যদিও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তেহরান আলোচনায় আগ্রহী এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা করাই তার মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, খামেনি দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে “ক্যু” বা অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা সরকারের কঠোর অবস্থানকে আরও জোরালো করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে কয়েক দশক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। ইরানে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায়, সম্ভাব্য গণফাঁসি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন করে বেড়েছে—যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ‘রেড লাইন’।
এর মধ্যেই ইরান রোববার ও সোমবার কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, মহড়ার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা বিমানকে হুমকি দেওয়া কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com