পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ নাটকীয় পরিস্থিতিতে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি, যারা ইতিমধ্যেই দুইশোর বেশি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অনেকটাই অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, টানা পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
এই নির্বাচনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কারণ এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধনের পর, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের শক্ত ঘাঁটি রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছিলেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রাক্তন সহযোগী ও বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যা এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
দুইশো চুরানব্বই আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন একশো আটচল্লিশটি আসন। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি এককভাবেই এই সংখ্যাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই নির্বাচনে আরও কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সীমিত উপস্থিতি এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা হুমায়ুন কবির-এর দল, যা ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে
দুই হাজার একুশ সালের নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস দুইশো পনেরোটি আসন জিতে ক্ষমতা ধরে রাখলেও, ভারতীয় জনতা পার্টি সাতাত্তরটি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছিল। তবে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের ফলাফল সেই সমীকরণকে বদলে দিতে পারে, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারাকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু একটি সরকারের পরিবর্তন নয় এটি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের বৃহত্তর রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তনের প্রতিফলন।