বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইতিহাসে এই প্রথমবার আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ রাখা হয়েছে, যা দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নির্বাচন “পূর্বনির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত” এবং এতে জনগণের প্রকৃত মতামতের কোনো প্রতিফলন থাকবে না। তার দাবি,
“দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন করা হলে সেটি ভোট নয়, বরং ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল।”
আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও ওয়ার্কার্স পার্টিকেও নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তার মতে, এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠে নামতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। সজীব ওয়াজেদ বলেন,
“ছোট আকারের কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে যাওয়া হবে।”
রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে রাষ্ট্রপতিকে পদ ছাড়তেই হবে—এটি রাজনৈতিক বাস্তবতা।
সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ইউনূস বাংলাদেশে থাকা ব্যবসায়িক স্বার্থ গুটিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, অর্থ স্থানান্তরের জন্য আজারবাইজানকে একটি ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং শেষ গন্তব্য ফ্রান্স, যেখানে ইউনূসের ব্যক্তিগত সম্পত্তি রয়েছে।
নির্বাচনী পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সজীব ওয়াজেদ। তার ভাষ্য,
“পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। পাশাপাশি আজারবাইজান সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।”
এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তার মতে, “নিয়ন্ত্রিত ভোট হলে দেশ ধীরে ধীরে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে পারে, যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে পড়বে।”
আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও জামায়াতে ইসলামীই আদর্শগত শত্রু, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের মূল চেতনাকে চ্যালেঞ্জ করে।