ওয়াশিংটন, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে উদ্দেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিটি পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের Foreign Affairs Committee-এর পক্ষ থেকে। এতে স্বাক্ষর করেছেন কমিটির র্যাঙ্কিং মেম্বার Gregory W. Meeks, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান Bill Huizenga, এবং কংগ্রেস সদস্য Sydney Kamlager-Dove, Julie Johnson ও Thomas R. Suozzi।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কংগ্রেস সদস্যরা মনে করেন, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বাংলাদেশের ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। পাশাপাশি, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন—যা নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে সামগ্রিকভাবে নিষিদ্ধ করা বা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা সমষ্টিগত শাস্তির শামিল, যা মৌলিক মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। বরং নির্দিষ্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠির শেষাংশে বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকার এই সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করবে, যাতে বাংলাদেশের জনগণ একটি সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার বেছে নিতে পারে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com