বেইজিং, ৮ মার্চ — বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ২০২৬ সালে নতুন মোড় নিতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এই বছরটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি “ঐতিহাসিক বা মাইলফলক বছর” হতে পারে।
রবিবার চীনের বার্ষিক আইনসভা অধিবেশনের এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তার ভাষায়, “দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি কৌশলগত নিশ্চয়তা প্রদান করছে।”
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে মার্চের শেষ দিকে বেইজিংয়ে একটি সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
যদিও ওয়াং ই আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে দুই দেশই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন,
“উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কর্মসূচি ইতোমধ্যে আলোচনায় রয়েছে। এখন উভয় পক্ষের উচিত যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা এবং বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা।”
ওয়াং ই আরও বলেন, চীন সবসময় আলোচনার পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সমানভাবে সহযোগিতা করে, তবে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বেইজিং ক্রমশ বড় ভূমিকা নিতে চায়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যবস্থায় জাতিসংঘের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা বজায় রাখা জরুরি।
চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একটি এবং ভেটো ক্ষমতা থাকার কারণে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
ওয়াং ই বলেন,
“জাতিসংঘ নিখুঁত না হলেও এটি ছাড়া বিশ্ব আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প কাঠামো তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।”
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত বছর যে গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করেছিলেন, তার কথাও উল্লেখ করেন ওয়াং ই। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা শক্তিশালী করা।
বেইজিংয়ের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
চীন ২০২৬ সালকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ যদি ইতিবাচক থাকে, তবে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ক নতুন দিক নিতে পারে—যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও।