পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ পিওকে অ্যাসেম্বলিতে চৌধুরি আনোয়ারুল হকের বিস্ফোরক দাবি করেছেন, দিল্লির লালকেল্লার বাইরে ১০ নভেম্বর যে কারবোমা বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তাতে পাকিস্তানের সরাসরি হাত রয়েছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের সদ্য প্রাক্তন ‘প্রধানমন্ত্রী’ চৌধুরি আনোয়ারুল হক পিওকে আইনসভায় বলেন, “ভারত বালুচিস্তানে রক্তপাত চালালে আমরা লালকেল্লা থেকে কাশ্মীরের জঙ্গল পর্যন্ত জবাব দেব। আল্লাহর রহমতে আমরা তা করেছি ,আমাদের সাহসী লোকেরা করেছে।”
ইসলামাবাদ এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার মাঝে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে ভারতের বিরুদ্ধে যে তারা বালুচিস্তানে অস্থিরতা উস্কে দেয়—যা দিল্লির মতে একমাত্র সীমান্ত–সন্ত্রাস আড়াল করার প্রচেষ্টা। ভারত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে গোয়েন্দা তদন্তে পাওয়া গেছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হিউন্দাই আই২০ গাড়ি ও হামলাকারী সেলটির যোগ রয়েছে জইশ–ই–মোহাম্মদের সঙ্গে—যা পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলোর একটি।
তদন্তকারীরা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, জম্মু–কাশ্মীরের শোপিয়ানের ধর্মীয় নেতা মৌলভি ইরফান আহমেদ ‘টেরর ডাক্টর’ নামে পরিচিত ১০ সদস্যের সেলটি তৈরি করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তান–ভিত্তিক জঙ্গি উমর–বিন–খাত্তাব ওরফে হানজুল্লাহ। হরিয়ানার আল–ফালাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি কয়েকজন তরুণ ডাক্তারকে প্রলুব্ধ করেন। তাঁদের মধ্যে ড. উমর মোহাম্মদ ছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী। বাকিরা গ্রেফতার।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, জইশ নতুন ‘ফিদায়েঁ’ হামলার জন্য তহবিল তুলছে। খাইবার–পাখতুনখোয়াতে লোকজনের কাছ থেকে ২০,০০০ পাকিস্তানি রুপি ‘চাঁদা’ দাবি করা হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে, বিশেষ করে পাকিস্তানের অ্যাপ ‘সাদাপে’ ব্যবহার করেও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নারী–নেতৃত্বাধীন হামলার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
জইশের আগেই একটি নারী ইউনিট আছে—জামাত–উল–মুমিনাত—যার দায়িত্বে আছেন মসুদ আজহারের বোন সাদিয়া। সন্দেহভাজন ডাক্তার শহিনা সাঈদ, যিনি নাকি ‘ম্যাডাম সার্জন’ নামে পরিচিত, এই ইউনিটের সদস্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য জানায়, জইশ ও লস্কর–ই–তৈয়্যেবা জম্মু–কাশ্মীরে নতুন সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাকিস্তানি সেনা ও ‘ডিপ স্টেট’–এর মদতে চলা এই দুই গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলায় আবারও মুখোমুখি এসেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, দুই সংগঠনের কৌশল, নেতৃত্ব এবং মতাদর্শগত পার্থক্য নতুন হামলা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।