মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে মঙ্গলবার ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ইউপিএসের একটি কার্গো বিমান (McDonnell Douglas MD-11) শহরের বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে আগুনে প্রায় একটি পুরো সিটি ব্লক জ্বলে যায়।
দুর্ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে, যখন বিমানটির বাম ডানা আগুনে জ্বলে ওঠে। ১৯৯১ সালে তৈরি এই বিমানটি লুইসভিলের মোহাম্মদ আলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাওয়াইয়ের হনলুলুর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।
কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানিয়েছেন, আরও ১১ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। লুইসভিল ফায়ার ডিপার্টমেন্টের প্রধান ব্রায়ান ও’নিল জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে চারজন বিমানটিতে ছিলেন না।
দুর্ঘটনার পর লুইসভিল বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
লুইসভিলেই অবস্থিত ইউপিএসের সবচেয়ে বড় প্যাকেজ হ্যান্ডলিং সেন্টার “ওয়ার্ল্ডপোর্ট,” যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং প্রতি ঘণ্টায় ৪ লাখের বেশি প্যাকেজ প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
ইউপিএস এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) ঘটনার তদন্ত করবে। কোম্পানি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তাদের প্যাকেজ বাছাই কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে কোনও বিপজ্জনক মালামাল ছিল না।
একজন বিমান বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি বলেন, বিমানের বাম পাশে আগুন লাগার পর সেটি উচ্চতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছিল। প্রচুর জ্বালানি থাকার কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
“বিমানটি নিজেই যেন জ্বালানি ভর্তি একটি বোমায় পরিণত হয়েছিল,” তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, পাইলট আগুন লক্ষ্য করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে রানওয়ে ত্যাগ না করে থেমে যাওয়া আরও বড় বিপদের কারণ হতে পারত।