নির্ধারিত সময়ের শেষ ভাগেই ম্যাচে দারুণ লিড ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ দল। জয় যেন ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে গোল হজমের অতীত অভিজ্ঞতা সমর্থকদের মনে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছিল। স্টেডিয়ামে উপস্থিত ২৩ হাজারেরও বেশি দর্শক শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষায় ছিলেন। তবে প্রতিটি মুহূর্ত পার হয়েছে বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে। বিশেষ করে তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন এবং মিডফিল্ড থেকে রক্ষণে ভূমিকা নিতে থাকা হামজা চৌধুরী অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে বারবার রক্ষা করেন। তাদের লড়াকু মনোভাবেই সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তির স্রোত বইতে শুরু করে এবং অবশেষে বাংলাদেশ দারুণ জয়ে ম্যাচ শেষ করে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১–০ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ১১তম মিনিটে, তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরছালিনের পা থেকে। এর আগে বাছাইপর্বের প্রথম লেগে ভারতের শিলংয়ে গোলশূন্য ড্র করেছিল হাভিয়ের কাবরেরা-নেতৃত্বাধীন দল। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় পাঁচ পয়েন্টে, যা দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে বাংলাদেশ দল। একাধিক সুযোগ তৈরি করে ভারতীয় রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অপরদিকে ভারত প্রথম ১৫–২০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ করতে পারেনি। পরবর্তীতে কিছু আক্রমণ সাজানো হলেও হামজা চৌধুরীর অনবদ্য ট্যাকল ও সঠিক সিদ্ধান্তে তা ব্যর্থ হয়। তাছাড়া ৩৭তম মিনিটে মাঠে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় দু’পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং রেফারি হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন।
পুরো ম্যাচ জুড়েই বাংলাদেশ রক্ষণভাগ ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ। চোট পেয়ে তারিক কাজী মাঠ ছাড়লেও বদলি হিসেবে নামা শাকিল আহাদ তপুও দায়িত্ব পালন করেন যথাযথভাবে। শেষ বাঁশি বাজতেই দর্শকসারিতে শুরু হয় উৎসব—কারণ অনেক দিন পর বড় ম্যাচে বাংলাদেশ লড়াই করেছে হৃদয় দিয়ে, ঘাম দিয়ে—এবং সর্বোপরি সম্মান ও গৌরব দিয়ে।