আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের আইসিসি মেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশ আর এই প্রতিযোগিতায় থাকছে না।
আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে স্কটল্যান্ড খেলবে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, যার সহ-আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
বিষয়টির সূত্রপাত হয় যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একাধিক স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের পরও ভারতের ক্ষেত্রে কোনো “বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য” হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিসিবির সঙ্গে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক আলোচনার পর, এবং বিস্তৃত নিরাপত্তা ও পরিচালন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে নির্ধারিত সূচি পরিবর্তনের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
আইসিসি আরও জানায়, ফেডারেল ও রাজ্য পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পাশাপাশি বাড়তি সুরক্ষা পরিকল্পনা বারবার বিসিবির কাছে তুলে ধরা হয়েছিল। তবুও শেষ পর্যন্ত সূচি বদলের অনুরোধ গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বুধবার এক বৈঠকের পর বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল—তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলবে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সম্মতি না আসায়, আইসিসি তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প দল নির্বাচন করে।
র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডই ছিল পরবর্তী সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা দল, যারা আগেই বিশ্বকাপের টিকিট পায়নি। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড রয়েছে ১৪ নম্বরে—যা নামিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ওমান ও ইতালির চেয়েও এগিয়ে।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে, যেখানে সূচি, নিরাপত্তা ও বোর্ডগুলোর অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এলো।