বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ৩৪৩ ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দীন ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন। মোট ৩৪৯ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন; ছয়জন আইনপ্রণেতা ভোট দেননি।
৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংসদ সদস্যরাও টেবিল চাপড়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ বিরোধী আইনপ্রণেতারা সরকারদলীয় বেঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে মির্জা ফখরুল তাঁদের দিকে এগিয়ে গিয়ে শফিকুর রহমানকে আলিঙ্গন করেন।
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মূলত রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে দীর্ঘদিনের সেই ঐতিহ্যে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয় মোহাম্মদ সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগের পর। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাহাবুদ্দীন পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত মাসে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
মির্জা ফখরুলের শপথের মধ্য দিয়ে সেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা শেষ হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নেতৃত্ব কার্যকর হবে।