শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আঘাত হেনে অন্তত ৪৪ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং পাঁচজনকে আহত করেছে। ঝড়টি এখন চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার ডলফিনের সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার (১০১ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছায়। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (JMA) ঝড়টিকে ‘ভেরি স্ট্রং’ টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে উচ্চ ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করেছে।
ওকিনাওয়া ও আমামি দ্বীপপুঞ্জে ঝড়টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ওকিনাওয়া প্রিফেকচারাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আহত পাঁচজনই বয়স্ক এবং তাদের কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়। প্রবল বাতাসে পড়ে গিয়ে তাদের মধ্যে তিনজন আহত হন।
ওকিনাওয়ার প্রধান বিমানবন্দর নাহা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট শুক্রবার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দ্বীপটিতে আসা-যাওয়া করা বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম NHK জানিয়েছে, নাহা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়েছে। একটি পার্কিং লটে একটি গাড়ি উল্টে পড়ে তেল লিক করতেও দেখা গেছে।
ডলফিন রোববার গভীর রাতে অথবা সোমবারের প্রথম দিকে চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে কর্তৃপক্ষ বন্দর ও স্কুল বন্ধ করেছে।
ঝেজিয়াং প্রদেশের নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং রোববার সব ফ্লাইট স্থগিত করা হবে।
ঝেজিয়াংয়ে উপকূলীয় টাইফুন সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। প্রদেশটির বন্দর ও ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত টাইফুনের মৌসুম চলে। এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় বা ক্রান্তীয় ঝড়ের প্রকোপ বেশি থাকে।
এ বছর শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে টাইফুনগুলো আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার হিসাবে, একটি গড় বছরে এই অঞ্চলে প্রায় ২৫টি ঘূর্ণিঝড় ট্রপিক্যাল স্টর্ম পর্যায়ে পৌঁছায় এবং এর মধ্যে প্রায় তিনটি জাপানের স্থলভাগে আঘাত হানে।
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়কে ‘টাইফুন’ বলা হয়। একই ধরনের ঝড় আটলান্টিক বা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হলে তাকে ‘হারিকেন’ বলা হয়।