ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতারা ১৮ ডিসেম্বর ব্রাসেলসে এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হন, যেখানে ব্লকের সামনে থাকা সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। আলোচনার মূল ফোকাস—ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সহায়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে।
সম্মেলনে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাব হিসেবে উঠে আসে—ইইউতে জব্দ থাকা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় €২১০ বিলিয়ন সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের জন্য একটি বড় অঙ্কের ঋণ প্যাকেজ গঠন। এই ঋণকে সম্ভাব্যভাবে যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাও আলোচনায় রয়েছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি European Council এর প্রধান Antonio Costa সাংবাদিকদের বলেন,
“২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনের আর্থিক চাহিদা পূরণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমরা এই কাউন্সিল ছাড়ব না।”
বেলজিয়ামের উদ্বেগ: রুশ প্রতিশোধের আশঙ্কা
ইইউতে জব্দ থাকা রুশ সম্পদের বড় অংশই রাখা আছে Belgium এ। ফলে সম্ভাব্য রুশ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে দেশটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী Bart De Wever প্রকাশ্যে রুশ সম্পদ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য ইইউর যৌথ ঋণ (joint debt) নেওয়াই হবে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও টেকসই পথ।
হাঙ্গেরির কড়া আপত্তি
এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে Hungary-ও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Viktor Orban একে “ডেড এন্ড” আখ্যা দিয়ে বলেন,
“পুরো ধারণাটাই বোকামি।”
আইনি লড়াইয়ে রাশিয়া
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইইউর এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এরই মধ্যে তারা বেলজিয়ামভিত্তিক ক্লিয়ারিং হাউস Euroclear এর বিরুদ্ধে মস্কোর আদালতে $২৩๐ বিলিয়ন (€১৯৬ বিলিয়ন) ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা দায়ের করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিই জব্দ করা রুশ সম্পদের হেফাজতে রয়েছে।
সামনে কী
ইউক্রেনের অর্থায়ন নিয়ে এই মতবিরোধ ইইউর ভেতরে রাজনৈতিক ঐক্যের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব ও কৌশলগত অবস্থান, অন্যদিকে আইনি ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হবে না। তবে ব্রাসেলসের এই সম্মেলন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউক্রেন প্রশ্নে ইইউ আর বিলম্ব করতে রাজি নয়।








