রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় মিত্ররা একটি নতুন কাঠামোতে একমত হয়েছে। মঙ্গলবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিনিধি একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়েছে—যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তবেই বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাৎক্ষণিক সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি না দিয়ে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার রূপরেখা নির্ধারণ করা। ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়াচ্ছে, এমন প্রেক্ষাপটে কিয়েভকে বিশ্বাসযোগ্য আশ্বাস দেওয়া এবং একই সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে আগেভাগে সেনা পাঠানোর ঝুঁকি এড়ানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এই কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য।
এই সমঝোতা এসেছে তথাকথিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং”-এর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বৈঠক থেকে, যেখানে ৩৫টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন, যার মধ্যে ২৭ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, এটি একটি “দৃঢ় ও টেকসই শান্তির জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা” তৈরি করবে। সাম্প্রতিক ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে “অপারেশনাল সমন্বয়” দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো
পরিকল্পনার মূল অংশে রয়েছে একটি বহুপক্ষীয় কাঠামো। যুদ্ধ থামলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় অংশীদারদের নিয়ে একটি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেবে। পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের ভূখণ্ডে একটি বহুজাতিক সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে—এ বিষয়ে ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি অভিপ্রায় ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, যুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স “কয়েক হাজার” সেনা দিতে পারে।
এছাড়া পরিকল্পনা ও তথ্য বিনিময় সমন্বয়ের জন্য প্যারিসে একটি যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেন–কোয়ালিশন সমন্বয় সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপ-নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে “রাশিয়ার নতুন হামলার ক্ষেত্রে সমর্থন” দেওয়ার যে ভাষা আগের খসড়ায় ছিল, তা রাখা হয়নি—যা ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সীমাবদ্ধতাই তুলে ধরে।
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, এই কাঠামোতে আঞ্চলিক মাত্রাও যোগ হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে তুরস্ক দায়িত্ব নিতে আগ্রহী,” যা ইঙ্গিত দেয়—স্থলবাহিনীর পাশাপাশি সমুদ্রপথেও মিত্রদের সমন্বিত ভূমিকার চিন্তাভাবনা চলছে।
সব মিলিয়ে, ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে একটি নিয়ন্ত্রিত ও বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা উপস্থিতির রূপরেখা দাঁড় করালেও, তা কার্যকর হবে যুদ্ধ থামার পরই—এই শর্তের মধ্য দিয়েই নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার পথরেখা টানা হলো।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com,ynewsglobal@gmail.com