বাংলাদেশের শিল্প ও রপ্তানি খাত বিপদের সম্মুখীন হতে পারে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার নারীদের কারখানায় কাজ না করার জন্য প্রতি মাসে ১২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে। অর্থনীতিবিদ এবং শিল্প নেতারা সতর্ক করেছেন যে এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে এটি দেশের রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই উদ্যোগটি নারীদের কারখানায় বা শিল্প ইউনিটে কাজ না করার জন্য অর্থ প্রদান করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি বছরে প্রায় ১৪,৪০০ কোটি টাকা (প্রায় ১% জিডিপি) ব্যয় করবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করবে। বাংলাদেশে প্রায় ৬০% নারী শ্রমিক কাজ করেন এবং তাদের অধিকাংশই তৈরি পোশাক শিল্পে (RMG) কর্মরত, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪% এর বেশি তৈরি করে। এই নীতি কার্যকর হলে শ্রমিকের চরম সংকট, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগীদের কাছে সাপ্লাই চেইন স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা ভিত্তিক এক অর্থনীতিবিদ বলেন, “RMG খাত নারীদের শ্রমিক ছাড়া কাজ করতে পারবে না। তাদের একাংশও হারানো গেলে উৎপাদন এবং বৈদেশিক আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে।”
এছাড়াও, এই ভর্তুকি সরকারের জন্য একটি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে সরকারকে অবকাঠামো, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাত থেকে অর্থ পুনঃবণ্টন করতে হতে পারে। শিল্প উৎপাদন ৩০–৫০% কমে গেলে বাংলাদেশ প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার রপ্তানি হারাতে পারে, বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
অর্থনৈতিক ঝুঁকি ছাড়াও, এই পদক্ষেপটি নারী ক্ষমতায়ন, শ্রমে অংশগ্রহণ এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে দশকের পর দশক চলা অগ্রগতি ফিরিয়ে দিতে পারে, যা বাংলাদেশের একটি নিম্ন-মধ্য আয়ের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মূল উপাদান ছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নারীদের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করার বদলে সরকারকে শিশু সেবা, কারখানার নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যাতে শ্রমে অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
একটি নীতি গবেষক বলেন, “এটি কার্যত উৎপাদনশীলতার ওপর একটি কর আরোপ করা হবে। বাংলাদেশের উন্নতির গল্প নারী শ্রমিকদের দ্বারা রচিত হয়েছে। তাদের কারখানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে, সেই সুবিধাটি মুছে যাবে।”