যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি দ্বিদলীয় বিল অনুমোদনের সবুজ সংকেত দিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে প্রস্তাবিত এই বিলকে ওয়াশিংটনের কৌশলে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম বলেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই সম্মতি পেয়েছেন। বিলটি তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ কয়েক মাস ধরে প্রস্তুত করছেন। গ্রাহামের ভাষায়, “ইউক্রেন শান্তির জন্য কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত, অথচ পুতিন কেবল কথা বলছেন—নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছেন।”
‘Sanctioning Russia Act of 2025’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবিত আইনে প্রেসিডেন্টকে প্রায় নজিরবিহীন ক্ষমতা দেওয়া হবে—রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করা এবং যেসব দেশ এখনও মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি ও ইউরেনিয়াম বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের ওপর কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
সবচেয়ে আলোচিত ধারাটি হলো—যে কোনো দেশ যদি রাশিয়ান তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য বা ইউরেনিয়াম কিনে, তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর ৫০০% শুল্ক বসানো হবে। এর লক্ষ্য একদিকে রাশিয়ার রাজস্বের পথ সংকুচিত করা, অন্যদিকে তৃতীয় দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করা।
গ্রাহাম বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর হাতিয়ার দেবে যারা সস্তা রাশিয়ান তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে।” তিনি বিশেষভাবে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো বড় অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেন, যাদের ওপর এই বিল উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করতে পারে।
আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই সিনেটে বিলটি ভোটে তোলা হতে পারে এবং সেখানে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বুধবারই মার্কিন বাহিনী নাকি ভেনেজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল রাশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টাকারী একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে বিলটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। সিনেটর র্যান্ড পলসহ সমালোচকদের যুক্তি, এ ধরনের শাস্তিমূলক শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাহাম অবশ্য সেই আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “এই মুহূর্তে মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ থামানো এবং পুতিনের অর্থের জোগান কেটে দেওয়া।”
সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটনের এই নতুন প্রস্তাব যদি আইনে পরিণত হয়, তাহলে তা শুধু রাশিয়ার নয়—বিশ্বের বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর কৌশলেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।