দুবাইয়ের শাসক হিসেবে ২০ বছর পূর্ণ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। ২০০৬ সালের ৪ জানুয়ারি, ভাই শেখ মাকতুম বিন রাশিদের মৃত্যুর পর তিনি দুবাইয়ের দায়িত্ব নেন। এরপর দুই দশকে তার নেতৃত্বে মরুপ্রান্তরের এই নগরী রূপ নিয়েছে বিশ্বমানের পর্যটন, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে।
শেখ মোহাম্মদ তার পিতা শেখ রাশিদ বিন সাইদের রেখে যাওয়া ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দুবাইকে এগিয়ে নিয়েছেন। ছোট একটি মাছধরা শহরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার সেই যাত্রা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ১৯৫৯ সালে লন্ডনে গিয়ে দুবাইয়ের প্রথম বিমানবন্দর নির্মাণের চুক্তি করার সময়ও তিনি বাবার সঙ্গে ছিলেন—তখন দুবাই ছিল ব্রিটিশ প্রোটেক্টোরেট, আর তিনি ছিলেন কিশোর।
দুবাইয়ের ফার্স্ট ডেপুটি রুলার শেখ মাকতুম বিন মোহাম্মদ সাম্প্রতিক এক বার্তায় তার পিতার জন্মদিন উপলক্ষে শেখ মোহাম্মদের অবদান স্মরণ করে বলেন, “যিনি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, আর বাস্তবতাকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য কিংবদন্তিতে পরিণত করেছেন।”
গত ২০ বছরে দুবাইয়ের রূপান্তরের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে উঠে এসেছে ২০১০ সালে উদ্বোধন হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা। এর পাশাপাশি দুবাই মারিনা, দুবাই মেট্রো, দুবাই মল ও মল অব দ্য এমিরেটসের মতো প্রকল্প শহরটির বৈশ্বিক অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও শেখ মোহাম্মদের ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। এক বছর বিলম্বের পর আয়োজিত এক্সপো ২০২০ দুবাই বিশ্বকে স্বাভাবিকতায় ফেরানোর প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে কপ২৮ জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে দুবাই আবারও বৈশ্বিক কূটনীতি ও পরিবেশ আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
শেখ মোহাম্মদের প্রভাব কেবল অবকাঠামো বা অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’ তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে—২০২৫ সালে এতে ৫০ দেশের ৩ কোটির বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
২০২২ সালে চালু হওয়া ‘গ্রেট আরব মাইন্ডস’ পুরস্কারে ১০ কোটি দিরহাম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার লক্ষ্য বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ ও উদ্ভাবকদের সম্মান জানানো। একই সঙ্গে, ২০১৫ সালে চালু হওয়া মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তায় বিলিয়ন বিলিয়ন দিরহাম ব্যয় করেছে।
দুবাইয়ের জনসংখ্যা ইতোমধ্যে ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা শহরটির বৈশ্বিক আকর্ষণের প্রমাণ। এই দ্রুত সম্প্রসারণ সামলাতে পরিবহন ও অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ চলছে। ১৮ বিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে নির্মাণাধীন দুবাই মেট্রো ব্লু লাইন যুক্ত করবে ১৪টি নতুন স্টেশন ও ৩০ কিলোমিটার নতুন রুট, যার বড় অংশই থাকবে ভূগর্ভে।
এ বছরই দুবাইয়ের আকাশে দেখা যেতে পারে ফ্লাইং ট্যাক্সি। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক জবি এভিয়েশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে গত নভেম্বরে সফল উড্ডয়ন-অবতরণ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলোর একটি হলো আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশাল সম্প্রসারণ। সম্পন্ন হলে এটি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিমানবন্দর—বার্ষিক সর্বোচ্চ ২৬ কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে, যা বর্তমান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাঁচ গুণ আকারের।
দুই দশকে শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদের নেতৃত্বে দুবাই শুধু একটি শহর নয়, বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মেগাসিটির রূপরেখা হয়ে উঠেছে।
বাইয়ের শাসক হিসেবে ২০ বছর পূর্তির সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম দুবাই কোর্টসে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন নতুন বিচারকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন। জাবিল প্যালেসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
শেখ মোহাম্মদ নবনিযুক্ত বিচারকদের দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করে বলেন, নাগরিকের অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন এবং নিরপেক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের মূল দায়িত্ব।
২০০৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দশকে তার নেতৃত্বে দুবাই বৈশ্বিক বাণিজ্য ও পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০ বছর পূর্তির এই সময়ে বিচার বিভাগ শক্তিশালী করার পদক্ষেপকে তার শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com