যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশে তাদের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে অভিজ্ঞ কূটনীতিক Brent Christensen-কে নিয়োগ দিয়েছে। মার্কিন সিনেটের ভোটে তার মনোনয়ন অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ‘কাউন্সেলর’ শ্রেণির ক্যারিয়ার কর্মকর্তা ক্রিস্টেনসেন বর্তমানে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে সিনিয়র অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ড—United States Strategic Command (USSTRATCOM)-এ ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তার অভিজ্ঞতা গভীর। তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দপ্তরের উপপরিচালক ছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে ঢাকায় কৌশলগত, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছে বলে কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন।
বিদেশে তার পোস্টিংয়ের তালিকায় ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনাম রয়েছে। ওয়াশিংটনে তিনি উত্তর কোরিয়া নীতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তরে বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরোতে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতায় ক্রিস্টেনসেন ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ২০২২ সালে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। ভাষাজ্ঞানেও তিনি বহুভাষিক—স্প্যানিশ, জার্মান, ফরাসি ও ভিয়েতনামি ভাষায় সাবলীল; পর্তুগিজ, ড্যানিশ ও জাপানিজে প্রাথমিক অধ্যয়ন করেছেন।
ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্কের বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—এই চার অক্ষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো। ক্রিস্টেনসেনের দীর্ঘ বাংলাদেশ-সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বাস্তবভিত্তিক ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আ
শা করা হচ্ছে।